রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহ আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সফল হবে না : টমাস কেইন

fec-image

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র বিদ্রোহ করতে পারে- এমন আশঙ্কা করে সম্প্রতি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ আইসিজি। আইসিজির প্রতিবেদনের লেখক এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বিষয়ক সিনিয়র কনসালট্যান্ট টমাস কেইন বলেছেন, এই বিদ্রোহ আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সফল হবে না।

টমাস কেইন বিবিসিকে বলেন, ‘ক্রাইসিস গ্রুপের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা, কারণ এই বিদ্রোহ আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সফল হবে না—যে বাহিনী মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছে। কিন্তু এর ফলে বাংলাদেশ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, সাধারণ নাগরিক এবং উভয় পক্ষের যোদ্ধাদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। এর পরিণতি হবে সত্যিই ধ্বংসাত্মক’।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব স্থগিত করেছে এবং নতুন করে সদস্য নিয়োগ বাড়িয়েছে। সক্রিয় গোষ্ঠীগুলো ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করে শরণার্থীদের রাখাইনে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করছে বলেও উল্লেখ রয়েছে আইসিজির প্রতিবেদনে।

টমাস কেইন আরো বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংগ্রামী চেতনা সৃষ্টির জন্য তৎপরতা চলছে গত এক দেড় বছরে। তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকদের দ্বারা ক্যাম্পে যে বর্ণনাটি ছড়ানো হচ্ছে, তা হলো—আমাদের ফিরে গিয়ে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে এবং আমাদের মাতৃভূমি পুনরুদ্ধার করতে হবে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৈঠক এবং সদস্য সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে আইসিজির প্রতিবেদনে। ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে কী ধরনের প্রশিক্ষণ হয়, সে প্রসঙ্গে টমাস কেইন বলেন, ‘ক্যাম্পে গোপনে কিছু করা প্রায় অসম্ভব। কিছু শারীরিক প্রস্তুতির মতো প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হয়েছে—যেখানে অস্ত্র ব্যবহার হয়নি, বরং ব্যায়াম বা ড্রিলের মতো কার্যক্রম হয়েছে।’

‘তবে সম্প্রতি আমরা কিছু শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি, যারা বলেছেন তারা এমন লোকদের চেনেন যাদের সীমান্ত এলাকার ক্যাম্পের বাইরে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। তাই আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী যে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে কিছু মাত্রার সশস্ত্র প্রশিক্ষণ চলছে। বিশেষ করে আরসার মতো গোষ্ঠীগুলোর সীমান্ত এলাকায় নিজেদের ক্যাম্প রয়েছে,’ বলেন টমাস কেইন।

উৎস : বিবিসি বাংলা

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আন্তর্জাতিক সম্মেলন, উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প, কক্সবাজার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন