রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র বিদ্রোহের জন্য উদ্বুদ্ধ করার তৎপরতায় ৪ সংগঠন


বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গা তরুণদের অনেকে ‘যুদ্ধ’ করতে প্রস্তুত। ক্যাম্পে সাধারণ রোহিঙ্গা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন রোহিঙ্গারা স্বীকার করেছেন যে, ক্যাম্পে অন্তত চারটি সংগঠন ‘সশস্ত্র বিদ্রোহ’, ‘জিহাদ’ বা ‘যুদ্ধের’ জন্য উদ্বুদ্ধ করার তৎপরতায় লিপ্ত আছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পে নিয়মিত ঘরোয় বৈঠক এবং আলাপ আলোচনা হয়। গোষ্ঠীগুলো হলো আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), ইসলামিক মাহাজ এবং আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ)।
নিজ দেশে ফেরার প্রশ্নে স্বাধীন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও দেখছেন তারা। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে গত এক-দেড় বছরের মধ্যে এমন চিন্তাভাবনা ও মানসিকতা তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরে তাদের অনেকের সাথে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।
কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে একজন রোহিঙ্গা যুবক বলেন, ‘আমরা এদিকে থাকবো না। আমরা মিয়ানমারে চলে যাবো। প্রয়োজনে যুদ্ধ করে হলেও ওইটা নিয়া আমরা স্বাধীন করে থাকব।’ নিজের চিন্তাভাবনা আরও স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করবো। আরাকান আর্মির সাথে। আমরা স্বাধীন (স্বাধীনতা) চাই।’
উখিয়া ক্যাম্পে আরেকজন যুবক বলেন, ‘আমাদেরকে যুদ্ধ করে নিজ দেশে স্বাধীনতা অর্জন করতে বলতেছে আরকি। সবাই জিহাদ করার জন্য প্রস্তুত। এটার জন্য সবাই একতালে আরসা, আরএসও- দুই দলই মিলে ভালো কাজ করছে।’
কক্সবাজারে সরেজমিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে এবং রোহিঙ্গাদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ক্যাম্পে নিয়মিত এসব বিষয়ে বৈঠক ও আলোচনা হয়।
সাধারণ রোহিঙ্গারা বলছেন, এই সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময় মিটিং করে তাদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে এবং মিয়ানমারের আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে একটা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরিরও প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
উৎস : বিবিসি বাংলা

















