বাংলাদেশ এককভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে পারবে না : মিজানুর রহমান

fec-image

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে এ দেশ থেকে রোহিঙ্গাদের বোঝা নামিয়ে দিতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ এককভাবে চাইলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে পারবে না। তবে প্রধান উপদেষ্টা গত বছর জাতিসংঘ মহাসচিবসহ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন পরের ঈদে তারা ঘরে বা দেশে গিয়ে ঈদ করবেন।

সেটা বাস্তবায়নের জন্যই সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা বিষয়ে ৩ দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির পাশাপাশি ২৫ আগস্ট সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টাও। কক্সবাজারের এই সম্মেলনকে তারা জাতিসংঘ অধিবেশনের ফলোআপ আয়োজন হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলার সাংবাদিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারের বলেন, রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের দখলে থাকায় বাংলাদেশ সরকার এখন আরাকান আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের স্বশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা অস্বীকার করেন তিনি।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘আরসা আরএসও এগুলোতো বাংলাদেশ সরকারের কোনো সংগঠন না। আর বাংলাদেশের ভূমিতেও এগুলো তৈরি হয়নি। এগুলো মিয়ানমারের অর্গানাইজেশন। মিয়ানমারে হয়েছে। এখন মিয়ানমারে তারা কী করবে না করবে এর দায় দায়িত্বতো আমরা নিতে পারি না। আমরা আমাদের টেরিটরিতে যেকোনও ধরনের ইলিগ্যাল আর্মস ডিলিং, ইলিগ্যাল আর্ম গ্রুপের অস্তিত্ব আমরা স্বীকার করি না। দ্যাট ইজ লাউড এন্ড ক্লিয়ার, আমাদের ভূমিকা।’

তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ‘আপনি দেখুন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কী করেছে। সো কলড মিলিট্যান্ট গ্রুপ বলা হয় আরসা তাদের প্রধানকে বাংলাদেশ গ্রেফতার করেছে, তাকে জেলখানায় পুরে রেখেছে। তারপর আরেকটি অর্গানাইজেশন যে আরএসও তার পলিটিক্যাল প্রধানকে বাংলাদেশ গ্রেফতার করে জেলখানায় পুরে রেখেছে। বাংলাদেশ যদি তাদেরকে উসকে দিত তাহলে বাংলাদেশের এই ভূমিকা থাকার কথা না।’

মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরাকান আর্মির বিরোধের ব্যাপারটি ঐতিহাসিক এবং সম্প্রতি এটি আরও প্রবল হয়েছে রাখাইনে যুদ্ধের বাস্তবতায়। রোহিঙ্গাদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে রাখাইন। তাদের বিষয়ে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ ব্যবস্থা করে নিয়েছে সরকারি বাহিনী বা রুলাররা। সেটাই বেড়েছে বিভিন্ন সময়।

‘যখন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় আরাকান আর্মি আক্রমণ শুরু করে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে, তখন রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ সরকারি বাহিনীর পক্ষে অস্ত্রধারণ করেছে। এটা তো সত্য ঘটনা এবং সে কারণে তাদের মধ্যে শত্রুতা আরও বেড়েছে। এর ফলে আরাকান আর্মিও যখন অকুপাই (দখল) করেছে তখন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় তারা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এর ফলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে ব্যাপক হারে, এই যে গত এক-দেড় বছরে এক লক্ষ ২০ হাজার আসলো।’

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আন্তর্জাতিক সম্মেলন, মায়ানমার, মিজানুর রহমান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন