খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় চাষাবাদে রূপা পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যনিউজ :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ৫০জন কৃষক পর্যায়ে এ রূপা পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়। এতে সাফল্য আসে এবং দ্বিগুণেরও বেশি উৎপাদন হয়। গত শুক্রবার রূপা পদ্ধতি কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে উপজেলার বাবুপাড়া এলাকায় রুপা মাঠ দিবস নামে ক্রপ কাটিং করা হয়। এতে দেখা যায়, রূপা পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে দ্বিগুণের বেশি ধান উৎপন্ন হয়েছে। ফলে রূপা পদ্ধতির দিকেই ঝুঁকছে স্থানীয় কৃষকরা।

রূপা পদ্ধতির আবিষ্কার করেছে সিনজেনটা বাংলাদেশ লি.। এ পদ্ধতি অবলম্বন করে চাষাবাদ করলে দ্বিগুণ ফলন পাওয়া সম্ভব। গেল ২২ নভেম্বর দীঘিনালা উপজেলার রূপা মাঠ দিবসে একটি ক্রপ কাটিং করে তা প্রমাণ করা হয়েছে। এসময় রূপা পদ্ধতিতে চাষাবাদের কৌশল সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেন সিনজেনটা বাংলাদেশ লি. এর রিজিওনাল সেলস্ ম্যানেজার মো. জিয়াউল হক। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেলস ইউনিট অফিসার আবু রাসেদ এবং সেল্স প্রমোশন অফিসার কৌশল জ্যোতি চাকমা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গীতারানী বিশ্বাসসহ স্থানীয় কৃষকরা।

অনিল চাকমা জানান, দুটি জমিতে আমি বিআর ১১ জাতের ধান রূপা পদ্ধতি ও প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষ করেছি। প্রচলিত পদ্ধতিতে চল্লিশ শতকে যেখানে ৮৪০ কেজি ধান উৎপন্ন হয়েছে, সেখানে রূপা পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষাবাদ করায় একই পরিমান জমিতে ১৫২০ কেজি ধান উৎপন্ন হয়েছে। যা সাধারন পদ্ধতির চেয়ে দ্বিগুন। এ সময় বাবু চাকমা, গাবুজ্জ্যা চাকমাসহ আরো কয়েকজন কৃষক জানান, রূপা পদ্ধতিতে অনেক খরচ কম। কিন্তু উৎপাদন বেশি। তাই রূপা পদ্ধতিতে আমাদের অবশ্যই চাষাবাদ করতে হবে।

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপ্নারাণী ভট্টাচার্য জানান, রূপা পদ্ধতিটি খুবই চমৎকার। এ পদ্ধতি কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া দরকার। যেখানে কম খরচে কৃষকরা দ্বিগুণ ফলন উৎপাদন করতে পারবে। জানা যায়, সিনজেনটা বাংলাদেশ লি. কৃষকদের চাষাবাদে কম খরচে দ্বিগুণ উৎপাদনে উৎসাহ যোগানোর লক্ষে একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করে। এ পদ্ধতির নাম রাখা হয় “রুপা” পদ্ধতি। ২০১২ সনের বোরো মৌসুমে বগুড়ায় রুপা পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদ করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 1 =

আরও পড়ুন