হালদা ফিরছে চিরচেনা রুপে : মানিকছড়িতে তামাকের আবাদস্থলে সবুজ শাক-সবজি’র হাতছানি

fec-image

এশিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। হালদা চরের উজান মানিকছড়িতে বিগত সময়ে অবাধে তামাক চাষাবাদ করা হলেও সম্প্রতিকালে তামাক আবাদ স্থলে অবাধে শাক-সবজি ও ফল-ফলাদি’র চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এতে পাল্টে যাচ্ছে হালদা পাড়ের চিত্র। হালদা ফিরে পাচ্ছে হারানো ঐতিহ্য।

যেখানে তামাকের বিষাক্ত বর্জ্যে ইতোপূর্বে দূষিত হতো পানি! ব্যাহত হতো মাছের অবাধ চলাচল ও প্রজনন কার্যক্রম। ফলে তামাক চাষ বিকল্প জীবিকায়ণে ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)এর অর্থায়ণে কাজ করছে পল্লী কর্ম-সহায়তা ফাউন্ডেশন(পিকেএসএফ)।

জানা গেছে, এশিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। এই নদীর দু’পাশ জুড়ে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা। আর উজানে মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন অংশে হালদার চরে অবাধে চাষাবাদ হচ্ছিল তামাক! হালদা নদীর গবেষকদের গবেষণায় হালদা নদীর বেহাল দশায় উঠে আসে দশটি কারণ। যার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো উজানে তামাক চাষ! যার ফলে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা সংরক্ষণ ও উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে সরকার। এছাড়া এই হালদা নদী আজ জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে। সরকার এটিকে ঘোষণা করেছে ‘বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ’।

যার ফলে হালদার পরিবেশ উন্নয়নে হালদাপাড়(চর) তামাকচাষ বিকল্প জীবিকায়ণে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বিকল্প চাষাবাদে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, এর পাশাপাশি ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কাজ করছে পল্লী কর্ম-সহায়তা ফাউন্ডেশন(পিকেএসএফ)। তাতে অর্থায়ণ করছে ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)।

ফলে ইতোমধ্যে এখানকার হালদা চর এলাকা যোগ্যাছোলা, গোরখানা, ছদুরখীল, তুলাবিলের শতাধিক কৃষক তামাক চাষ ছেড়ে দিয়ে উন্নত জাতের ফল-ফলাদি রামবুটান, আম, কাঁঠাল, বাতাবি লেবু, মাল্টা, পেঁপে, ড্রাগন, লিচু’র চারা সরবরাহ ও শাক-সবজি’র বীজ, সার-ওষধ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয়ে কাজ করছে কৃষি,মৎস্য, প্রাণী সম্পাদ বিভাগ ও পিকেএসএফ।

এতে করে সম্প্রতিকালে পাল্টে গেছে হালদাপাড়ের পরিবেশ। দৃশ্যমান হচ্ছে সবুজ শাক-সবজি ক্ষেতে কৃষকের গড়াগড়ি ও ফসলের সমারোহ। এভাবেই প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে হালদার পরিবেশ। ধীরে ধীরে হালদায় ফিরে আসবে মৎস্য প্রাণীর অভয়ারণ্য এমনটাই প্রত্যাশা মৎস্য বিশেষজ্ঞদের।

আইডিএফ’র হালদা প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. সজীব হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, এশিয়া মহাদেশের অমূল্য সম্পদের অন্যতম এবং একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র আমাদের হালদা নদী। আজ এটি বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে এর ঐতিহ্য রক্ষায় এবং প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন স্বাভাবিক রাখতে হালদা পাড়ের পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে আমরা এখানকার শতাধিক তামাক চাষীর বিকল্প জীবিকায়ণে উন্নত জাতের শাক-সবজি, ফল-ফলাদির বীজ, প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষকদেরকে আধুনিক চাষাবাদে প্রশিক্ষিত করে তুলছি। আমরা আশাবাদী অচিরেই হালদা পাড় সবুজ শাক-সবজি ও ফল-ফলাদির সমারোহে ভরপুর হবে। এতে হালদা ফিরে পাবে নতুন জীবন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ বলেন, হালদা আমাদের অহংকার। এশিয়া মহাদেশে হালদার সমকক্ষ নদী আর নেই। এ নদীতে প্রাকৃতিক ভাবেই মা মাছ অবাধে ডিম দেয় এবং পোনা উৎপাদন হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’র জন্মশত বার্ষিকীতে এটিকে আর্ন্তজাতিক তথা বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এর ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষা করে মৎস্য প্রজননে কাজ করছে সরকার।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: মানিকছড়ি, হালদা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + four =

আরও পড়ুন