যথাযোগ্য মর্যাদায় বাঘাইছড়িতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন


রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়ছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আহসান হাবিব জিতুর সভাপতিত্বে শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা মিলনায়তনে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সকল শহীদের স্বরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আবু কাইয়ুম, পৌর মেয়র মোঃ জাফর আলী খান, বাঘাইছড়ি থানার ওসি এম এ মনজুর, প্রেসক্লাব সভাপতি দিলিপ কুমার দাশ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোঃ গিয়াস উদ্দিন মামুন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ আজিজুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নুর মহাম্মদসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছাত্র ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তরা বলেন, ১৯৪৭ সালে পাক ভারত স্বাধীনতা অর্জন করলেও বাংলার মানুষ কখনও স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারেনি। তারা প্রতিনিয়ত পাকবাহিনীর হাতে নির্যাতিত হতে থাকে। বাঙালি জাতি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৫, ১৯৬৬, ১৯৭০ সালে বাঙালীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং ১৯৭০ সালে বাঙালীদের পার্লামেন্টে / জাতীয় সংসদে যাওয়ার ভোটাভুটি হয়। কিন্ত বাঙালি জাতির পরিতাপের বিষয়, বাঙালি জাতি সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেয়ে সংসদে বসতে না পেরে নিজেদের মুক্তির আন্দোলনে স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন ।
দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ চলাকালীন পাকবাহিনী বাঙালীদের উপর অনেক জুলুম নির্যাতন করেও যখন বাঙালিদের দমন করতে পারছিলনা , তখন পাকবাহিনী নিজেদের পরাজয় বুঝতে পেরে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদেরকে পরিকল্পিতভাবে ১৯৭১ সালের এই দিনে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

















