কুতুবদিয়ার সৈকতে পড়ে আছে মৃত তিমি


কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় সৈকতে একটি মৃত তিমি পাঁচ দিন ধরে পড়ে রয়েছে। ক্রমেই ফুলে গিয়ে পচন ধরছে এবং বের হচ্ছে বিষাক্ত দুর্গন্ধ। কিন্তু এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন।
জানা যায়, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের অলী পাড়া সৈকতে জোয়ারের পানিতে একটি বিশাল মৃত তিমি ভেসে আসে। পরে ভাটার টানে বালুচরে এসে সেটি আটকে যায়। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, তিমিটি ফেটে গেলে পুরো দ্বীপে পরিবেশগত বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
সৈকতে ফিশিং বোট নির্মাণ শ্রমিক জয়নাল আবেদীন ও মোহাম্মদ খলিল জানান, পাঁচ দিন ধরে সৈকতে বিশাল তিমিটি পড়ে আছে। ধীরে ধীরে সেটি ফুলে যাচ্ছে এবং পচন ধরছে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে সেখানে বোট নির্মাণের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই কথা জানান স্থানীয় দোকানদার রুহুল আমিন। তিনি বলেন, তিমিটি মাটি চাপা দিতে তিন দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন এবং বালি চাপা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতের জোয়ারের পানিতে সেই বালি সাগরে চলে যায়। এখন তিমির শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরে পুঁজ ও রক্ত বের হয়ে পানিতে মিশে যাচ্ছে। বাতাসে অসহ্য দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকাজুড়ে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, মৃত তিমিটি ফুলে গিয়ে পচে গেলে দুর্গন্ধ ছড়াবে এবং আশপাশের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে। এতে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তাই পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগ দ্রুত তিমিটিকে মাটি চাপা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে।
দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, সৈকতে মৃত তিমি ভেসে আসার খবর পেয়ে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় রাতে ক্রেনসহ গাড়ি এনে মাটি চাপা দেওয়া হয়। কিন্তু জোয়ারের পানিতে এবং তিমিটি ফুলে ওঠায় বালি সরে যায়। তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়েছে।

















