অফিসে হাজিরা না দিয়েও বেতন পান খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের কর্মচারী তাহের

fec-image

অফিসে হাজিরা না দিয়েও মাসের পর মাস বেতন উত্তোলন করে যাচ্ছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী মো. আবু তাহের। ফলে তার ক্ষমতার উৎস নিয়ে জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রীতিমত প্রশ্ন উঠেছে।

মো. আবু তাহের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অফিস সহায়ক। তার বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের অন্ত নেই। এ সব অভিযোগ বছরের পর বছর চলছে। তিনি জেলা পরিষদের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী হলেও হাত অনেক লম্বা। অব্যশ্যই তার মাথার উপর দুটি তদন্ত কমিটি ও কৈফিয়ত যোগ হয়েছে। তবে তা হয়েছে ভুক্তভোগিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে।

২৯ জুলাই (বুধবার) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পরিষদের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী মো. আবু তাহেরকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের একাধিক কর্মচারী বলেন, আবু তাহের মাসের অধিকাংশ সময়ই কর্মস্থলে থাকেন না। কিন্তু মাস শেষে ঠিকই বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রীতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মো. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও মাটিরাঙায় বিদ্যুতের খুঁটি ও সংযোগ বাণিজ্য করে সাধারণ জনগণ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের উদ্যোগে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। পাশাপাশি জেলা পরিষদ তাকে কৈফিয়ত তলব করে।

অভিযোগ রয়েছে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী আবু তাহের মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া গ্রামের ২০-২৫ পরিবারের কাছ থেকে বিদ্যুতের খুঁটি দেয়ার নাম করে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় ১০ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে মো. আবু তাহের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভীষণ কান্তি দাস জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মাটিরাঙা উপজেলা প্রকৌশলী মনির হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। ঘটনার সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপর একটি সূত্র জানায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসাকে প্রধান করে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি আবু তাহেরকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দুর্নীতিবাজ আবু তাহেরের শেষ পরিণতি কি হয়!

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, জেলা পরিষদের
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + two =

আরও পড়ুন