বান্দরবান সীমান্ত রোড:

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল পেশার আড়ালে ‘অপরাধ’

fec-image

পেশায় মোটরসাইকেল চালক। ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে যান সীমান্ত থেকে উপজেলা-জেলা সদরে। এমনই প্রায় ২ শতাধিক ভাড়ার মোটরসাইকেল চলছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন সড়কে। এসব মোটরসাইকেল চালক অনেকের বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচার, চোরাই মোটরসাইকেল ব্যবসা, তক্ষক পাচার, অপহরণ-ডাকাতির মতো অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী, দোছড়ি, সোনাইছড়ি ও চাকঢালা-আশারতলী বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের কদর বাড়ে যাত্রীদের কাছে। সেসময় এলাকার কর্মহীন বেকার যুবকরা এই পেশায় জড়ালেও বর্তমানে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে ইয়াবা পাচারকারী, ডাকাতি, অপহরণকারীসহ নানা অপরাধে অভিযুক্তরা আশ্রয় নিয়েছে এ পেশায়।

সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের মোটরসাইকেলে করে যাত্রীবেশে বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার অনেক চালক নিজেই ইয়াবা বিক্রি করছে। এছাড়া প্রশাসনের গতিবিধির তথ্য আদান প্রদান করছে এসব মোটরসাইকেল চালকরা। নিজেদের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন রোড়ে সমিতি গঠন করেছে। আর এসব সমিতিতে চালকদের পরিবর্তে নেতৃত্বে এনেছে স্থানীয় প্রভাবশালী পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের। ফলে চালকদের কর্তৃক প্রকাশ্য বা গোপনে হওয়া বহু অপরাধের ঘটনা ধামাচাপা পড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধুমাত্র উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নেই ভাড়ার মোটরসাইকেল রয়েছে অন্তত ৮০টি, নাইক্ষ্যংছড়ি-আশারতলী-চাকঢালা সড়কে সমিতি নিয়ন্ত্রিত ২৮টি ও সমিতির বাইরে ১০টি, সোনাইছড়ি ৩২টি, দোছড়িতে ২০টি এবং গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া, থিমছড়ি, বড়বিলসহ আশপাশ এলাকার আরো অন্তত ৪০টিসহ সর্বমোট ২১০টির মতো মোটরসাইকেল নিয়মিত চলাচল করছে। এসব অধিকাংশ গাড়ি কিংবা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে মাসোহারা দিয়ে বৈধতা নিয়েছে তারা।

এই বিষয়ে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যানিং মারমা জানান, অপরাধীরা সহজ যাতায়তের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে সীমান্ত ও পাহাড়ি এলাকায় আনাগুনা থাকা মোটরসাইকেল চালকরা ইয়াবাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছে। ইতিপূর্বে সোনাইছড়ির বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ধরা পড়েছে।

সরেজমিনে বাইশারী ইউনিয়নের একাধিক জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এলাকার মানুষ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতেই কেবল এলাকায় অনেকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। মূলত এই পেশার আড়ালে ইয়াবা, তক্ষক পাচার, চোরাই কাঠ পাচারে সহযোগিতা করে থাকে তারা। এছাড়া বিজিবি-পুলিশের টহল ও অভিযানের গতিবিধির তথ্য অপরাধীদের কাছেও আদান প্রদান করে মোটরসাইকেল চালকরা।

ইতিপূর্বে বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র, ইয়াবা, তক্ষকসহ আটক এবং ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্তও হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক এই প্রতিবেদককে জানান, একসময় এলাকার মানুষ মানবিক কারণে চালক বা সমিতির লোকদের ভালো চোখে দেখতো। কিন্তু অপরাধীদের কারণে সবাই তাদের বাকা চোখে দেখছে।

মোটরসাইকেল চালকরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি মোটরবাইক চালক শ্রমিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম উদ্দিন বলেন, ক’দিন আগে ইয়াবাসহ দুইজন চালক আটক হয়েছে ঠিক, তারা আমাদের সমিতির কোন সদস্য ছিল না। মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে অনেকে ইয়াবাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। অবৈধ মালামাল কিংবা অপরিচিত লোকজন বহণের ক্ষেত্রে তাদের বিধি নিষেধ রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চালকদের বিষয়ে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা জানার পর আমরা সর্তক হয়েছি। অপরাধের এসব কাজে কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যয় ব্যবস্থা নেব। তবে ধরার আগ পর্যন্ত বলা যাচ্ছেনা কে জড়িত, আর কে জড়িত না।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =

আরও পড়ুন