পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী হচ্ছেন বীর বাহাদুর

BIR BAHADUR Bandarban 21.12.2013

স্টাফ রিপোর্টার :
নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বান্দরবান আসনে টানা পঞ্চমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বীর বাহাদুর

৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বীর বাহাদুর মোট ভোট পেয়েছেন ৬২ হাজার ৫৫৩ ভোট। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৯ ভোট।

এদিকে রাঙ্গামাটি আসনে দীপংকর তালুকদারের পরাজয়ের পর নতুন সরকারে বীর বাহাদুর একটি সম্মানজনক অবস্থান পাচ্ছেন- এটা এখন নিশ্চিত।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সরকারের একটি সূত্র জানায়, নতুন সরকারে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় বীর বাহাদুর পেতে পারেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বান্দরবান থেকে প্রথমবার বিজয়ী হন ক্রীড়াবিদ ও ফুটবল রেফারি বীর বাহাদুর। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হলে তাকে করা হয় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান। একই সাথে উপমন্ত্রীর পদ মর্যাদায় তিনি নিযুক্ত হন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান। ২০০১ এর নির্বাচনে তার টানা তৃতীয়বার বিজয়ের পর দল গোছানোর দায়িত্ব পান তিনি। তাকে দেয়া হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব।

২০০৮ সালে তিনি আবারো বান্দরবান আসনে বিজয়ের ধারা অক্ষুণœ রাখতে সক্ষম হন, টানা চতুর্থবার বিজয়ের গৌরব অর্জন করায় প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ অলঙ্কৃত করেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় দফায় দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলায় সফলতার সাথে জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠন করে নিজ যোগ্যতার প্রমাণ রাখেন।

এর আগে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠিত হলে খাগড়াছড়ির প্রবীণ সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমাকে এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়। ২০০৮ সালে বিজয়ের পর গঠিত সরকারে মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নীতি নির্ধারক বলেন, বয়সে অপেক্ষাকৃত নবীন হওয়ার কারণে মন্ত্রণালয় পরিচালনার জন্যে এতদিন বীর বাহাদুরের নাম কিছুটা কম বিবেচিত হলেও এবার পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের বিজয়ী দু’সাংসদের মধ্যে নির্বাচনে টানা পঞ্চমবার বিজয় লাভ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বয়সের দিক থেকে সিনিয়র হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবার তার জন্যে অনেকটাই নিশ্চিত।
সূত্র জানায়, তবে এ জন্যে অপেক্ষা করতে হবে ২৪ জানুয়ারির পর নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পার্বত্য চট্টগ্রাম, পার্বত্য মন্ত্রী, বীর বাহাদুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + 10 =

আরও পড়ুন