নাইক্ষ্যংছড়ির কম্বনিয়ায় কুপিয়ে একই পরিবারের ৫ জনকে জখম

fec-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক পঙ্গু বৃদ্ধসহ তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও মেয়েকে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২জুলাই) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আশারতলী কম্বনিয়া গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আহতরা হলেন- নবী হোসেন (৫৫), তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪০), ছেলে মো: ইউছুপ, মো: ইসমাইল (১৭), মো: ইছহাক (১৫) ও মেয়ে রাবেয়া বেগম (১৫)।

নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক কাবেরী মজুমদার জানান- আহতদের মধ্যে তিনজনের মাথায় সেলাই করা হয়েছে। বাকি দু‘জন পিঠ ও হাতের বিভিন্ন অংশে ফোলা জখম হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত নবী হোসেন জানান, দীর্ঘকাল যাবত স্থানীয় কম্বনিয়া এলাকায় নিজের জমিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন তিনি। কিন্তু তার জমির পূর্ব ও উত্তর দিকের সীমানা অতিক্রম করে জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে তার আপন বড় ভাই আজমত আলী‘সহ ওই পরিবারের লোকজন।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে আজমত আলী‘সহ তার পরিবারের লোকজন দা, লাঠিসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জায়গার সীমানা অতিক্রম করে ঘেরাবেড়া নির্মাণ কাজ করছিল। এসময় বাঁধা দেন পঙ্গু ভাই নবী হোসেন।

এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে আজমত আলীর নির্দেশে, আলী হামজা, আবদুর রহমান, জরিনা খাতুনসহ সংঘব্ধ লোকজন নবী হোসেনের পরিবারের উপর হামলা চালায় বলে আহতরা জানিয়েছেন।

আহত, মো: ইউছুপ জানান- ঘটনার সময় ৭/৮ জন দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এবং পরিবারের অন্যান্যদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। পরে আত্মীয়স্বজন এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, নবী হোসেন দূর্ঘটনা জনিত কারণে প্রায় চার বছর যাবত পঙ্গু হয়ে আছেন। ছেলেরা কৃষি ও শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। হামলার পর চিকিৎসা খরচ বহনের মতো সামর্থ্যও তাদের নেই। পুরো পরিবারের উপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন জানান- জায়গা-জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় নবী হোসেনসহ কয়েকজন তার অফিসে এসেছিল। আগে তাদের চিকিৎসা নিতে বলেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, কম্বনিয়া এলাকায় একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আহতরা থানায় এসেছিল। আগে তাদের চিকিৎসা নিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 4 =

আরও পড়ুন