মহেশখালীতে রাখাইন সম্প্রাদায়ের ৩ দিনব্যাপী জলকেলি উৎসব

fec-image

নানা আয়োজন ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদির মধ্যদিয়ে  দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে চলবে তিন দিনব্যাপী রাখাইনদের মাহা সাংগ্রেং পোয়ে বা জলকেলি উৎসব। তরুন-তরুণীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর নাচে গানে রাখাইন সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ সামাজিক এই উৎসবে পরিণত হয়।

রাখাইন ১৩৮০ বর্ষকে বিদায় ও ১৩৮১ কে  বরণে ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এটি প্রতিবছর রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন, পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয় মহেশখালীর রাখাইন পল্লি  গুলিতে।

রাখাইন পঞ্জিকা মতে ১৪ এপ্রিল শেষ হয়েছে রাখাইন বর্ষ ১৩৮০ সাল। আর ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে নতুন ১৩৮১ রাখাইন বর্ষ। কোনও ধর্মীয় রীতি নয়, সামাজিক রীতি মতে রাখাইন নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মহেশখালীর রাখাইনরা একে-অপরকে পানি নিক্ষেপ করার খেলায় মেতে ওঠে এই দিনগুলোতে। এই উৎসব চলবে আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত।

রাখাইন তরুন-তরুণীরা জানায়, সাংগ্রেং পোয়ে’র তিন দিনের এই উৎসবকে তাদের ভাষায় বলা হয় ‘মাহা সাংগ্রেং পোয়ে’। ওই দিন সকালে এলাকা ভিত্তিক শোভাযাত্রা বৌদ্ধ কিয়াং এ যাবে। এক ঘণ্টা বাদক বিশেষ ঘন্টা বাজিয়ে কিয়াং-সহ প্যান্ডেল পরিদর্শনের নিদের্শনা দেন। এই শোভাযাত্রায় তরুনরা মাটির তৈরি কলসি ও পেছনে বয়স্ক নারী-পুরুষ‘কল্প তরুন’ বহন করবে। কিয়াং থেকে শোভাযাত্রাটি প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ায় আর পানি নিক্ষেপ খেলায় মেতে উঠবে। প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো এসব তরুণদের নাচে গানে আনন্দের পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী পানীয় পান করবে। একে অপরকে পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে পুরাতন বছরের সকল পাপ, ক্লান্তি আর অসঙ্গতি মুছে-ধুয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে তাদের এ আয়োজন।

মহেশখালী বড় রাখাইন পাড়ার রাখাইন ইয়ং ইউনাডেট ক্লাবের উপদেষ্টা উছেন থে রাখাইন জানান, আদিকাল থেকে রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে সামাজিকভাবে সাংগ্রে পোয়ে উৎসব পালন হয়ে আসছে। এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে সবাই। এর মাধ্যমে আমরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের সব ব্যথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। এটি আমাদের কাছে খুবই পবিত্র ও উৎসবের দিন।

রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতা ওয়াল ফেয়ারের নেতারা বলেন, ‘চৈত্র সংক্রান্তি থেকে রাখাইনদের বর্ষবরণ ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ উৎসব শুরু হয়ে চলে প্রায় সপ্তাহ জুড়ে। উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ‘পানি খেলা’ বা ‘জলকেলি’ বৈশাখের চতুর্থ দিন থেকে শুরু হয়। এবারের ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব চলবে ৫ বৈশাখ থেকে ৮ বৈশাখ পর্যন্ত।

মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, রাখাইনদের জলকেলি উৎসব উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও  মাঠে রয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহেশখালী, রাখাইন অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সপ্তাহ জুড়ে নববর্ষ  পালনের  পাশাপাশি   রাখাইন পাড়ায় তৈরি করা হয়েছে জলকেলির ৫টি নান্দিক প্যান্ডেল। রঙিন ফুল আর নানা কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্যান্ডেলের চারপাশ। সবার মাঝে এখন বর্ষ বরণের আমেজ। রাখাইন এলাকার প্রতিটি বাড়ি সেজেছে নতুন সাজে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড়রাও ব্যস্ত নতুন কাপড়ে নিজেকে রঙিন করে তুলতে। উৎসবের মূল লক্ষ্য অতীতের সকল ব্যাথা-বেদনা, গ্লানি ভুলে ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দিন গড়ার প্রত্যায়।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, জলকেলী, পানি খেলা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 5 =

আরও পড়ুন