বান্দরবানে সাঙ্গু জলে ফুল ভাসিয়ে বিজু শুরু

fec-image

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। পাহাড়ের গায়ে নরম কুয়াশার আস্তরণ, আর তার মাঝেই নীরবে বয়ে চলেছে সাঙ্গু নদী। ঠিক এই সময়টাতেই শুরু হয় এক অনন্য আয়োজন ফুল ভাসানো।  প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝেই শুরু হয়েছে চাকমা ও তংচঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব বিজু।

বছরের পুরোনো দুঃখ-কষ্টকে বিদায় জানাতে আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর তীরে ভিড় করছেন শত শত চাকমা ও তংচঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীরা। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত মানুষজন আর ফুলের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে সাঙ্গু নদীর জলধারা। নিজেদের সংস্কৃতি বাহারি পোশাকে সাঙ্গু নদীর তীরে এই আয়োজনে এ যেন পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়।

বিজু উপলক্ষে সকাল থেকেই সাঙ্গু নদীর তীরে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে শুভ কামনা করা হয় নতুন বছরের জন্য। তাদের বিশ্বাস এই ফুলের সাথে ভেসে যাবে সকল অশুভ শক্তি আর দুঃখ-বেদনা।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান উৎসব বিজু-এর প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’। এই দিনে ছোট-বড় সবাই ভোরে ঘুম থেকে উঠে আশপাশের বন-জঙ্গল থেকে নানা রঙের ফুল সংগ্রহ করে। কারও হাতে বুনো ফুল, কারও হাতে বাগানের যত্নে লালিত ফুল সব মিলিয়ে যেন প্রকৃতির এক রঙিন সম্ভার।

আয়োজকরা জানিয়েছে, সন্ধ্যায় থেকে রোয়াংছড়ি উপজেলাতে শুরু হবে ঘিলা খেলা। সেখানে সারারাত ব্যাপী চলবে নানা আনুষ্ঠানিকতা আর অতিথিদের আপ্যায়ন।

শ্রীমতী চাকমা ও প্রণালী তংচঙ্গ্যা বলেন, ভোর সকাল ফুল সংগ্রহ করে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসাতে এসেছি। কারণ আজকে ফুল বিজু। নারী পুরুষসহ সব বয়সের মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করব। পুরানো বছরে দুঃখ কষ্ট মুছে গিয়ে নতুন বছরে যেন সবার ভালো কাটুক এই প্রত্যশা।

বাংলাদেশ তংচঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক উজ্জল তংচঙ্গ্যা বলেন, ফুল ভাসানো মধ্য দিয়ে বিজু শুরু হয়েছে। এছাড়াও সন্ধায় থেকে ঘিলা,দসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উৎসব, বান্দরবান, বিজু
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন